কাজুবাদাম আমদানিতে অস্বাভাবিক মূল্য সুবিধা

শুল্কবৈষম্যে দেশীয় প্রক্রিয়াজাত শিল্প

কাজুবাদাম কার্নেল আমদানিতে অস্বাভাবিক মূল্য সুবিধার কারণে দেশের প্রক্রিয়াজাত শিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে কাস্টমসে শুল্কায়ন হওয়ায় আমদানিকারকরা বড় ধরনের কর সুবিধা পাচ্ছেন। এতে একদিকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যয় সামলে বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান এ মূল্যায়ন কাঠামো অব্যাহত থাকলে দেশে গড়ে ওঠা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খোসামুক্ত কাজুবাদাম কার্নেল আমদানিতে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে প্রতি কেজির শুল্কায়ন মূল্য ধরা হচ্ছে ৪ দশমিক ১০ ডলার। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ ডলার মূল্যায়নের বিধান থাকলেও আমদানিকারকরা ‘হালকা আবরণযুক্ত’ কাজুবাদাম দেখিয়ে এখানেও ৪ দশমিক ১০ ডলার মূল্যেই শুল্কায়নের সুবিধা পাচ্ছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিদ্যমান এ মূল্যায়ন ব্যবস্থার কারণে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০৭ টাকা পর্যন্ত করসুবিধা মিলছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে একই মানের ডব্লিউ-৩২০ গ্রেডের কাজুবাদাম কার্নেলের দাম বর্তমানে প্রতি কেজি ৭ দশমিক ২০ থেকে ৮ ডলার। সে হিসাবে বাংলাদেশে ঘোষিত আমদানি মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কাজুবাদাম শিল্প এখন গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় তিন হাজার কৃষক এটি চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলোয় বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কর্মরত আছেন। ফলে শিল্পটি দুর্বল হয়ে পড়লে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান বাজারদরে শুধু কাঁচামাল বাবদই প্রতি কেজি কার্নেলের উৎপাদন ব্যয় পড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ ডলার। এর সঙ্গে প্রক্রিয়াকরণ, শ্রম, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও অর্থায়ন ব্যয় যুক্ত হলে মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১০ দশমিক ৫০ ডলারে। এ অবস্থা্য় দেশীয় শিল্পের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানার উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যাশু প্রসেসর (প্রস্তাবিত) সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ ইকবাল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে কাজুবাদামের মূল্য ৭-৮ ডলার হলেও বাংলাদেশে আমদানিতে শুল্কায়ন হচ্ছে তার প্রায় অর্ধেকে। কাজুবাদাম আমদানির শুল্ক-কর সব মিলিয়ে ৪৬ শতাংশ। অথচ দেশে উৎপাদিত কাজুবাদাম প্রক্রিয়াকরণের জন্য দেশীয় উদ্যোক্তারা ধারাবাহিক বিনিয়োগ করেছেন।’

আরও